সোমবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২২

পতিত জমিতে ধান চাষ করে প্রশংসায় ভাসছেন দেবীগঞ্জ বিএডিসি ফার্ম





পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ পৌরসভার ০৯ নং ওয়ার্ড নতুন বন্দর এর সর্ব দক্ষিণে ৬৩ একর যায়গা নিয়ে গড়ে উঠেছে দেবীগঞ্জ বিএডিসি ফার্ম।  উক্ত ৬৩ একর যায়গা ইতি পূর্বে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, দেবীগঞ্জ এর আওতাধীন ছিল। সে সময় উক্ত জমিতে আলু, গম,কাউন চাষ করা হলেও তেমন কোন উল্লেখযোগ্য ফলন চোখে পড়েনি এলাকাবাসীর। বছরের বেশির ভাগ সময় ফাকা পড়ে থাকতো ৬৩ একর জমি। এলাকাসহ আশেপাশের মানুষের কাছে জানা যায় এই জমিতে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট দেবীগঞ্জ, পঞ্চগড়, নাম মাত্র চাষ-বাস করলেও তেমন ভালো কোন ফসল করতে পারেনি। কিন্তু গত ১ বছরে বিএডিসি কর্মকর্তা আবু তালেব সেই জমিতে বাম্পার ফলন দেখিয়েছে বলে প্রশংসা করছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। গত সিজনে আলুর বাম্পার ফলনে ব্যাপক প্রশংসা কুরিয়েছিলেন বিএডিসি কর্মকর্তা আবু তালেব। এলাকার কৃষক শ্রেণি সহ সকল সাধারণ জনগণ মতামত দেন ইতি পূর্বে এমন উচ্চফলনশীল আবাদ তাদের চোখে পড়েনি। আলুর পরে উক্ত জমি পতিত না রেখে সরকারের " ১ ইঞ্চি জমি ও অনাবাদি থাকবে না " এই শ্লোগান কে স্বার্থক ও দেশের খাদ্য সংকটের কথা চিন্তা করে দেশ ও জনগণের কল্যাণে সরকারের উন্নয়ন স্বার্থে উক্ত ৬৩ একর জমিতে ধান চাষ করার সিদ্ধান্ত নেন। প্রাথমিক ভাবে এতটা সহজ ছিল না বিএডিসি কর্মকর্তা আবু তালেব এর জন্য প্রথমে উঁচু নিচু জমি সমান করা তারপর পর্যাপ্ত জৈব সার প্রয়োগ সবশেষে তার জন্য সর্বোচ্চ চ্যালেঞ্জ ছিল উক্ত বেলে-দোঁয়াশ মাটিতে সঠিক সেঁচ ব্যাবস্থা পনা। পরিশেষে যখন ধান রোপণ করা হয় সে সময় অনেকেই হাসাহাসি ও টিটকারি করেন এই বলে যে "এই বালুখানত কেংকরি ধান হবে" অর্থাৎ এই বালু জমিতে ধান চাষ করা নেহায়েত বোকামি। কিন্তু সুর পাল্টে গেল ধানের বাম্পার ফলন দেখে  এলাকাবাসীর ভাষায় " আমরা অবাক হয়ে গেছি এমন পতিত জমিতে এত সুন্দর ফসল উৎপাদন হতে পারে তা আমরা কল্পনায় করতে পারি নাই " ৬৫ বছর বয়সী সুলতান আহমদ বলেন আমার বয়স ৬৫ বছর বয়সে জীবনে শুরু থেকে এই পর্যন্ত প্রথমবার এই পতিত জমিগুলোতে ধান চাষ দেখলাম । পতিত জমিতে বাম্পার ফলন দেখতে ভীড় করছেন আশেপাশের সকল কৃষক সহ আসছেন দূরদূরান্তের লোকজন ও সকলের মুখে একই কথা অবাক করার মতো বাম্পার ফলন দেখিয়েছে। বিএডিসি কর্মকর্তা আবু তালেব এর নিকট অনেক কৃষক পরামর্শের জন্য ছুটে আসছেন কিভাবে চাষ করলে এত সুন্দর ফসল হতে পারে।   এলাকার যুবকদের থেকে জানা তারা বেকার ছিল বিএডিসি হওয়ার পরে তাদের কর্মসংস্থান হয়েছে তাদের দাবি বিএডিসি যেখানে পতিত জমিতে বাম্পার ফলন দেখিয়েছে সেখানে তার বীপরিত পার্শ্বে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট দেবীগঞ্জ , পঞ্চগড় এর প্রায় ৫০০ একর জমি অনাবাদি পতিত রেখেছে যদি সেই জমিগুলো পতিত না রেখে বিএডিসি কে দেওয়া হতো তাহলে কমপক্ষে ১ হাজার লোকের কর্মসংস্থান হওয়ার মাধ্যমে বেকারত্ব দূরীকরণ ব্যাপক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন শ্রমিক সাবু, জামিনুর,নুরজামাল,সামিনুর, সহ বিএডিসি তে কাজ করা সকল শ্রমিক উক্ত দাবি কে সমর্থন জানায়। বিএডিসি এর শ্রমিকদের বক্তব্যের উপর ভিত্তি করে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় যতদূর দৃষ্টি যায় উর্বর জমি অথচ কোন ফসল নেই গরু-ছাগল চষে বেড়াচ্ছে, সেখানে গরু চরানো কয়েকজনের সাথে মতবিনিময় করে জানা যায় আলু চাষ করা হয়েছিল উক্ত জমি গুলোতে এর পর আর কোন ফসল করা হয় নি আসছে সিজনে আবার আলু লাগানো হবে ততদিন জমি পরে থাকে, একদম ফাঁকা তাই আমরা গরু-ছাগল ঘাস খাওয়ার জন্য নিয়ে আসি। এভাবে জমি পড়ে থাকার বিষয়ে কথা বলতে চাইলে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট দেবীগঞ্জ, পঞ্চগড় এর কর্মকর্তা তার দাপ্তরিক কাজে ব্যাস্ত থাকায় সাংবাদিকদের সাথে পরে কথা বলবেন বলে জানায়।

শেয়ার করুন

0 coment rios: